[email protected] শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

১৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ আগষ্ট ২০২৬ ৫:৩৩ পিএম

সরকারের নতুন সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

আগামী ১৬ আগস্ট এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার বছরে ধাপে ধাপে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

নিয়মিত তথ্য হালনাগাদের মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র ও যোগ্য পরিবারগুলোর কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ডসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

মন্ত্রী জানান, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়নে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে, যা অক্টোবরের শেষ নাগাদ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের ৫৬টি এলাকায় পরিচালিত পাইলট কার্যক্রমে সন্তোষজনক ফল পাওয়া গেছে। যশোর ও নেত্রকোনার দুটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে কিছু সমস্যা ধরা পড়লেও সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে। অন্য ৫৪টি এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো জটিলতা দেখা যায়নি এবং ত্রুটির হার ছিল ৩ শতাংশেরও কম।

সভায় জানানো হয়, ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও আধুনিক অনলাইন পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। পরে প্রতি মাসে তথ্য হালনাগাদ করা হবে, যাতে মৃত্যু, আয়-রোজগারের পরিবর্তন কিংবা অন্য কোনো সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তন দ্রুত নিবন্ধনে যুক্ত করা যায়।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বহুস্তরীয় তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা তথ্য সংগ্রহের তদারকি করবেন। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। জাতীয় পর্যায়েও একটি কমিটি থাকবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীও নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন।

তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন ব্যবস্থার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। ফলে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তথ্যও হালনাগাদ হবে। এতে কোনো পরিবার দরিদ্রতা থেকে উন্নীত হলে বা পুনরায় আর্থিক সংকটে পড়লে সেই তথ্যও নিবন্ধনে প্রতিফলিত হবে।

মন্ত্রী জানান, প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যাতে বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যাতে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হন, সেজন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করাই সরকারের উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, ধর্ম, জাতিগত পরিচয় বা রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে কাউকে অগ্রাধিকার দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ থাকবে না।

একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রীর ভাষ্য, পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছালে তা শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন, বৃক্ষরোপণ, কুটির শিল্প, সেলাই এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে বেশি ব্যবহৃত হয়।

এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি ও দারিদ্র্য বিমোচনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সরকারের প্রত্যাশা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর