[email protected] রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, প্রাণহানি বেড়ে ৫১

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬ ৯:৪৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের প্রভাবে দেশের সাতটি জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৫৯টি উপজেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন।

 

রোববার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজার জেলা। সেখানে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন। আহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।

 

দুর্গত মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সাত জেলায় মোট ১ হাজার ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এসব কেন্দ্রে ৩৮ হাজার ৪২২ জন মানুষ অবস্থান করছেন।

 

চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার ১৬টি উপজেলায় জলাবদ্ধতা ও বন্যার প্রভাব দেখা দিয়েছে। সেখানে ৫৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ হাজার ৯০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ জেলায় ১৩ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন।

 

কক্সবাজারের ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন এবং চারটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন অবস্থান করছেন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এছাড়া ২৪ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

 

বান্দরবানের সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা বন্যার কবলে পড়েছে। জেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন এবং আহত হয়েছেন ২ জন।

 

রাঙামাটির নয়টি উপজেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। জেলার ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন মানুষ অবস্থান করছেন। সেখানে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলায় বন্যার প্রভাব পড়েছে। ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এ জেলায় একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

 

মৌলভীবাজারের পাঁচটি উপজেলা এবং হবিগঞ্জের তিনটি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। মৌলভীবাজারে ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭২ জন মানুষ অবস্থান করছেন এবং সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

 

বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকার ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর জন্য মোট ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

 

জেলা ভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে চট্টগ্রাম পেয়েছে ৬৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল। কক্সবাজারে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল। রাঙামাটিতে ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল, বান্দরবানে ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল এবং মৌলভীবাজারে ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ বরাদ্দ অব্যাহত রয়েছে।

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর