অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের প্রভাবে দেশের সাতটি জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
রোববার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজার জেলা। সেখানে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন। আহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।
দুর্গত মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সাত জেলায় মোট ১ হাজার ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এসব কেন্দ্রে ৩৮ হাজার ৪২২ জন মানুষ অবস্থান করছেন।
চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার ১৬টি উপজেলায় জলাবদ্ধতা ও বন্যার প্রভাব দেখা দিয়েছে। সেখানে ৫৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ হাজার ৯০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ জেলায় ১৩ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন।
কক্সবাজারের ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন এবং চারটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন অবস্থান করছেন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এছাড়া ২৪ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
বান্দরবানের সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা বন্যার কবলে পড়েছে। জেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন এবং আহত হয়েছেন ২ জন।
রাঙামাটির নয়টি উপজেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। জেলার ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন মানুষ অবস্থান করছেন। সেখানে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলায় বন্যার প্রভাব পড়েছে। ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এ জেলায় একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মৌলভীবাজারের পাঁচটি উপজেলা এবং হবিগঞ্জের তিনটি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। মৌলভীবাজারে ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭২ জন মানুষ অবস্থান করছেন এবং সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকার ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর জন্য মোট ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জেলা ভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে চট্টগ্রাম পেয়েছে ৬৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল। কক্সবাজারে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল। রাঙামাটিতে ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল, বান্দরবানে ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল এবং মৌলভীবাজারে ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ বরাদ্দ অব্যাহত রয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এসআর