[email protected] সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
২২ আষাঢ় ১৪৩৩

ভারী বর্ষণ ও উজানের পানিতে ১৪ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ জুলাই ২০২৬ ৯:৫২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তত ১৪টি জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সাময়িক বন্যা বা প্লাবন দেখা দিতে পারে।

 

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে আগামী পাঁচ দিনে সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং ভারতের ত্রিপুরা ও মেঘালয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

পূর্বাভাস অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী তিন দিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পস্থায়ী বন্যা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু এলাকাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

 

এ ছাড়া সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী ও যাদুকাটা অববাহিকার নদীগুলোর পানিও দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা বা প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

 

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও যমুনার পানি কিছুটা বেড়েছে। আগামী কয়েক দিনে ওঠানামা করলেও এ দুটি নদীর পানি আপাতত বিপৎসীমা অতিক্রম করবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইভাবে গঙ্গা ও পদ্মার পানিও সামান্য বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে।

 

রংপুর অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গত এক দিনে কিছুটা কমেছে। তবে আগামী এক দিনের পর আবার এসব নদীর পানি বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে। এছাড়া বান্দরবানের লামায় ২০৬ মিলিমিটার, টেকনাফে ১৬২ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের কয়েকটি এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

 

সোমবার সকাল পর্যন্ত দেশের কোনো নদী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত না হলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিয়মিত সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর