[email protected] রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

মুজিববর্ষের কর্মসূচিতে ব্যয় প্রায় ৯৮৩ কোটি টাকা, সংসদে জানালেন অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬ ৮:০৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি

মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (১২ জুলাই) সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াতের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

অর্থমন্ত্রী জানান, ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৩টি প্রতিষ্ঠান মুজিববর্ষ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে অর্থ ব্যয় করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নানা আয়োজন, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, বেদি, ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের স্থাপনা নির্মাণ এবং রাষ্ট্রীয় সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড স্থাপন অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ব্যয়ের হিসাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ ২৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয় ২০৬ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৪০ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১৩৩ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫৬ হাজার, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২৬ কোটি ২৬ লাখ ৪১ হাজার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৪ কোটি ৩০ লাখ ৪৩ হাজার, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৩ কোটি ২০ হাজার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করেছে।

সম্পূরক প্রশ্নে ব্যয়ের নিরীক্ষা বা তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি জানান, মুজিববর্ষের ব্যয়ের পাশাপাশি আগের সরকারের সময় বিভিন্ন খাতে হওয়া ব্যয়ের হিসাবও পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হচ্ছে। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু মুজিববর্ষ নয়, অতীত সরকারের বিভিন্ন ব্যয়ও সরকারের পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এক বছরের আপ্যায়ন ব্যয়ের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।

এদিকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

ইতোমধ্যে একাধিক মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের সম্পত্তি জব্দের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, দেশের অর্থ বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত তিনটি লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) ঋণচুক্তির আওতায় বর্তমানে সাতটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর