[email protected] সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

দুই ধাপেই বাস্তবায়নের পথে নবম পে-স্কেল

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২৬ ১২:৩৭ এএম

সংগৃহীত ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিভিন্ন নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, শুরুতে নতুন বেতন কাঠামো তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা থাকলেও সরকারি চাকরিজীবীদের মতামত ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেটি পরিবর্তন করে দুই ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে সরকার।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রথম ধাপেই সম্ভাব্য বেতন বৃদ্ধির প্রায় ৬০ শতাংশ সুবিধা পেতে পারেন।

অন্যদিকে, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

একই সঙ্গে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করতে পৃথক একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুধু মূল বেতন নয়, বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর যাতে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালার সংশোধনের কাজ এগিয়ে চলছে।

পাশাপাশি বেতন নির্ধারণ বা ফিক্সেশন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

সেক্ষেত্রে কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকেই গণনা করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে বর্ধিত বেতনের বকেয়া (অ্যারিয়ার) পরিশোধ করা হবে।

এদিকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

বিশেষ করে বাড়িভাড়া ভাতার বর্তমান হার পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে কর্মস্থল ও অঞ্চলভেদে মূল বেতনের ৪৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া ভাতা দেওয়া হয়। মূল বেতন বৃদ্ধি পেলে একই হার বহাল থাকলে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

তাই এ ভাতার হার যৌক্তিকভাবে সমন্বয়ের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া চিকিৎসা ভাতার বর্তমান পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ, শিক্ষা সহায়ক ভাতার কাঠামো পরিবর্তন বা সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

একই সঙ্গে যাতায়াত, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন ভাতা

সমন্বয় এবং কম ব্যবহৃত বা অপ্রাসঙ্গিক কিছু ভাতা বাতিলের বিষয়ও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর