সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক নথিপত্র প্রস্তুত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সংস্থাটি তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণাদি একত্র করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং ভ্রমণসংক্রান্ত নথি জালিয়াতিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার সারসংক্ষেপ, তদন্ত নথি এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি সংগ্রহ করে একটি পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্টেশন প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তদন্তে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমি ও অন্যান্য সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়া বিদেশে থাকা কিছু সম্পদের বিষয়েও অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে। দুবাইয়ে অবস্থিত একটি ফ্ল্যাট জব্দ করার তথ্যও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত হওয়ার পর তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক পর্যায়ে পাঠানো হবে। এরপর আন্তর্জাতিক বিধি অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন করা হবে।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে জানায় যে, দেশটির আইনের আওতায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিতে হবে।
এ আবেদনের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয়, অভিযোগের বিবরণ, সংশ্লিষ্ট আইনের অনুলিপি, আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তদন্ত বা বিচারসংক্রান্ত নথি সংযুক্ত করার শর্ত রয়েছে।
জানা গেছে, প্রত্যর্পণ আবেদনের সব নথি আরবি
ভাষায় অনূদিত এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের সত্যায়িত হতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এসব কাগজপত্র কূটনৈতিক মাধ্যমে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে ইউএই কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা INTERPOL ২০২৫ সালের এপ্রিলে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে, যার মাধ্যমে তাকে আন্তর্জাতিকভাবে অনুসন্ধান ও আটক প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়।
এসআর