[email protected] রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সংসদে শিবির নেতা প্রসঙ্গে বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনা, তদন্তসাপেক্ষ সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত স্পিকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬ ৬:৩৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক ছাত্রনেতার নিখোঁজ হওয়া, উদ্ধার এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্পিকারের হস্তক্ষেপে সংসদে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়।


রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ বিধির আওতায় দেওয়া এক বক্তব্যে জানান, সম্প্রতি নিখোঁজ হওয়া ছাত্রসংগঠনের এক কেন্দ্রীয় নেতার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে কিছু ব্যক্তিগত ও ফৌজদারি অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এক নারীর করা মামলায় ধর্ষণ ও গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


মন্ত্রী দাবি করেন, নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সরকারকে দায়ী করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাই প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরতেই বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।


তবে বিরোধীদলীয় উপনেতা এ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বিচারাধীন ও বিতর্কিত একটি বিষয় সংসদে উপস্থাপন করা অনুচিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনকে লক্ষ্য করেই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জনসম্মুখে না আনা এবং গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত রাখার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।


এরপর সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিনিময় শুরু হয়। সংসদ কক্ষে কয়েক মিনিট ধরে হট্টগোল চলতে থাকলে স্পিকার সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং সংসদীয় বিধি অনুসরণের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার রুলিং দিয়ে বলেন, বক্তব্যে কোনো অসংসদীয় বা বিধিবহির্ভূত শব্দ বা মন্তব্য থেকে থাকলে তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংসদের কার্যবিবরণী থেকেও সংশ্লিষ্ট অংশ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।


স্পিকারের এই ঘোষণার পর উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং অধিবেশনের পরবর্তী কার্যসূচি হিসেবে সম্পূরক বাজেট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

এসআর

সম্পর্কিত খবর