বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে আদালত।
তদন্তের স্বার্থে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের পর গত ২৪ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন। বিষয়টি বুধবার নিশ্চিত করে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মরদেহ উত্তোলনের কার্যক্রম শুরু হবে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং মামলার তদন্তে নতুন তথ্য অনুসন্ধানের জন্য পুনরায় ময়নাতদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে সালমান শাহর পরিবারের সদস্যরা রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসভবনে তাকে দেখতে যান। পরে হঠাৎ করে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে খবর পেয়ে তারা সেখানে ফিরে আসেন। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত শেষে সিলেটে তাকে দাফন করা হয়।
ঘটনার দিন রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন পর মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেয় আদালত। সেই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে এবং ঘটনার সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিলেন।
বাদীপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় সালমান শাহর শরীরে কিছু অস্বাভাবিক চিহ্ন দেখা গিয়েছিল, যা পরিবারকে শুরু থেকেই সন্দিহান করে তোলে। পরবর্তীতে তার বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরীও মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যা হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, পুনরায় ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে। মামলার তদন্ত বর্তমানে সিআইডির তত্ত্বাবধানে চলমান রয়েছে।
এসআর