[email protected] মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষোভ, দায়ীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ জুন ২০২৬ ৮:৪২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়ানো এবং ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অযৌক্তিক বিলম্বের জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি। সভায় প্রায় ৩ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা ব্যয়ের ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮১১ কোটি টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮০ কোটির বেশি।

সভায় খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে বারবার সময় বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত দেন।

একই সঙ্গে দীর্ঘসূত্রতার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা সংস্থাকে শনাক্ত করার নির্দেশও দেন।

 

প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প ব্যয়ের বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা করে অনেক ক্ষেত্রে খরচকে অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন। ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

এ সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রেট সিডিউলে পার্থক্য থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব রেট সিডিউল সমন্বিত করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

সভায় দেশের মহাসড়কগুলোর পরিবেশগত সৌন্দর্য নিয়েও কথা বলেন তিনি। সড়কের পাশে উপযোগী ও পরিবেশবান্ধব গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়ে ইউক্যালিপটাস ও ইপিল-ইপিলের মতো গাছ রোপণে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

 

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হলো চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে কক্সবাজারের ঈদমনি পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সড়ককে আধুনিক ও অধিক প্রশস্ত সড়কে রূপান্তর করা হবে।

 

এ ছাড়া পানি সম্পদ, ভূমি, পল্লী উন্নয়ন, জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা এবং বিদ্যুৎ খাতের একাধিক প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন, উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ, শিশু হাসপাতাল সম্প্রসারণ এবং ঢাকা সিএমএইচে ক্যানসার সেন্টার উন্নয়ন প্রকল্প উল্লেখযোগ্য।

 

শিক্ষা খাতে মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা ও তথ্যব্যবস্থা উন্নয়ন এবং দেশের শত শত মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপনসংক্রান্ত সংশোধিত প্রকল্পও অনুমোদিত হয়েছে।

 

এছাড়া ৫০ কোটি টাকার নিচে ব্যয়ের ছয়টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে পানি ও স্যানিটেশন উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডাকসেবা সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং কৃষি শিক্ষা প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত উদ্যোগ রয়েছে।

 

সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর