স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যমান বিভিন্ন শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা প্রত্যাহার হলে দেশের প্রায় ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তবে সম্ভাব্য এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বহুমুখী বাণিজ্য কৌশল গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সোমবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এলডিসি-পরবর্তী বাস্তবতায় রপ্তানি খাতকে প্রতিযোগিতামূলক রাখতে নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) চূড়ান্ত হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সেপা) নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং আঞ্চলিক জোটগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের চাপ, আন্তর্জাতিক মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট এবং ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাবে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। ফলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় আমদানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতিও সম্প্রসারিত হয়েছে।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে প্রায় ২৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে আগের অর্থবছরে এ ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। এ সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৭৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি আয় এসেছে ৫৫ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ২০২টি দেশ ও অঞ্চলে পণ্য রপ্তানি করছে। তবে মোট রপ্তানি আয়ের বড় অংশ এখনও তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। এ নির্ভরতা কমাতে চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, হালকা প্রকৌশল, হিমায়িত খাদ্য এবং প্লাস্টিক শিল্পসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা সম্প্রসারণ, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্পখাতকে সহায়তা প্রদান এবং নতুন রপ্তানি নীতি বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা ও রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। ভুটানের সঙ্গে বিদ্যমান অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় দুই দেশের বেশ কিছু পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে একই ধরনের উদ্যোগ এগিয়ে চলছে এবং ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি সবচেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের লক্ষ্য এলডিসি-পরবর্তী সময়ে নতুন বাজার সৃষ্টি, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করা।
এসআর