[email protected] সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সংসদে সানসিলা জেবরিন: "হাসপাতাল নিজেই আইসিইউতে"

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ জুন ২০২৬ ১:১১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

শেরপুর সদর হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসাসেবার চরম সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য

 ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা। রোববার (৭ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের মাধ্যমে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, "যে হাসপাতালের মানুষের চিকিৎসা করার কথা, সেই হাসপাতাল নিজেই এখন আইসিইউতে চলে গেছে।"

​সংসদে শেরপুর সদর হাসপাতালের যে বাস্তব চিত্রগুলো তুলে ধরা হয়েছে, তা নিচে দেওয়া হলো:

​আবাসন ও শয্যা সংকট: জেলার ১৭ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা এই হাসপাতালটি। শেরপুরের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের কাঁচা ও দুর্গম রাস্তা পেরিয়ে মুমূর্ষু রোগী বা গর্ভবতী মায়েরা যখন হাসপাতালে আসেন, তখন শয্যা না পেয়ে মেঝে বা বারান্দায় দিনের পর দিন কষ্ট পান।

​চিকিৎসক ও জনবল সংকট: প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০০ রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে হাসপাতালটিকে। অথচ হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্টের ১০টি পদের সবকটিই খালি। এমনকি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও তা চালানোর মতো কোনো চালক নেই।

​অকেজো আইসিইউ ও নিরাপত্তা হীনতা: করোনাকালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালে একটি আধুনিক আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিট করা হয়েছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে এটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ ও অকেজো হয়ে আছে। বর্তমানে এই পরিত্যক্ত অংশটি মাদকসেবী, চোর ও দালালের আড্ডায় পরিণত হয়েছে এবং হাসপাতালের দামী চিকিৎসা যন্ত্রপাতিও চুরি হচ্ছে।

​পরিবেশ বিপর্যয় ও অব্যবস্থাপনা: হাসপাতালের পাশে ময়লা-আবর্জনার ডাস্টবিন থাকায় এর দুর্গন্ধে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এছাড়া ৯ তলা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবন হলেও রোগীদের ওঠানামার জন্য পর্যাপ্ত লিফট নেই।

​নিয়োগে স্থবিরতা: ২০১৮ সালের পর থেকে এই হাসপাতালে স্বাস্থ্য বিভাগের নতুন কোনো কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। গত আট বছরে ছয়বার নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ দিলেও অজ্ঞাত কারণে বারবার তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

​সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন শেরপুরের মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই হাসপাতালের সংকটগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।

এসআর

সম্পর্কিত খবর