[email protected] বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাইক-প্রাইভেট কার নেই, তবুও আসছে এআই মামলার মেসেজ! যা করবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২৬ ১০:৪২ এএম

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পর, এই প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে ডিজিটাল প্রতারণার

 নতুন ফাঁদ তৈরি করেছে একটি সাইবার প্রতারকচক্র। বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোনে ভুয়া মামলা ও জরিমানার এসএমএস পাঠিয়ে ব্যাংক কার্ডের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, যাদের কোনো গাড়ি বা মোটরসাইকেল নেই, তারাও এমন ‘স্পিডিং ফাইন’ সংক্রান্ত বার্তা পাচ্ছেন। সম্প্রতি মিরপুরের বেসরকারি চাকরিজীবী মাহফুজ পলাশ এবং গণমাধ্যমকর্মী ফৌজিয়া সুলতানার মতো অনেকেই এমন ভুয়া মেসেজ পেয়েছেন, যেখানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ভয় দেখিয়ে জরিমানা দাবি করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে জরিমানা ২০০% বৃদ্ধি বা গাড়ি বাজেয়াপ্তের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এই মেসেজগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করতে ভিডিও সার্ভিলেন্স ক্যামেরার নম্বর এবং হুবহু সরকারি ওয়েবসাইটের মতো দেখতে ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক (ফিশিং লিংক) ব্যবহার করা হচ্ছে। রাসেল আহমেদ নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা এই ফাঁদে পা দিয়ে লিংকে প্রবেশ করলে তাকে ১৫০০ টাকা জরিমানা পরিশোধের অফার দেওয়া হয়। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই মেসেজগুলো কোনো নাম ছাড়াই ফিলিপাইনের কান্ট্রি কোড (+৬৩) যুক্ত নম্বর থেকে পাঠানো হচ্ছে।

মেসেজে থাকা ভুয়া লিংকে ক্লিক করলেই ব্যবহারকারীর নাম, তথ্য এবং ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের নম্বরের পাশাপাশি পেছনের গোপন সিভিভি (CVV) নম্বরটি হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি, যার ফলে কোনো পাসওয়ার্ড ছাড়াই কার্ড থেকে টাকা চুরি করা সম্ভব হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি বিভাগের অধ্যাপক বি এম মঈনুল হোসেন এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আরিফ মঈনুদ্দীন সাধারণ মানুষকে এ ধরনের অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিআরটিএ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) পৃথক বিবৃতিতে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে। বিআরটিএ জানিয়েছে, তাদের অফিসিয়াল সার্ভিস পোর্টালের (বিএসপি) আদলে তৈরি এসব ভুয়া ওয়েবসাইটের সঙ্গে সরকারি কোনো সম্পর্ক নেই এবং যেকোনো সরকারি ওয়েবসাইটের শেষে ‘.gov.bd’ যুক্ত থাকে। অন্যদিকে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ স্পষ্ট করেছে যে, সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী কোনো মামলা হলে তা কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত চিঠির মাধ্যমে চালক বা মালিকের ঠিকানায় পাঠানো হয়।

বিশেষ প্রয়োজনে ট্রাফিক বিভাগ থেকে কেবল ০১৩২০-০৪২২০৭ এবং ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বর দুটি থেকে এসএমএস পাঠানো হতে পারে। পুলিশ ও প্রযুক্তিবিদরা এই ধরনের প্রতারণামূলক মেসেজ এড়িয়ে চলার এবং কেউ প্রতারিত হলে অবিলম্বে পুলিশের সাহায্য নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর