[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রামিসা হত্যা মামলায় নতুন তথ্য দিল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬ ৮:০৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

পুলিশের দাবি, ঘটনার সময় মূল অভিযুক্তকে পালানোর সুযোগ করে দিতেই ফ্ল্যাটের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ রেখেছিলেন তার স্ত্রী।


মঙ্গলবার রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, শিশুটির স্বজনরা দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে দরজা খোলা হয়নি। পরে অভিযুক্ত জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার পর দরজা খোলা হয়।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্তের স্ত্রীও সহযোগী হিসেবে জড়িত থাকতে পারেন। তদন্তকারীদের ধারণা, শিশুটি পাশের ফ্ল্যাটের এক ব্যক্তির যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। তবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানানো হয়।


পুলিশ জানায়, ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে এক নারীকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।


তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিহত শিশুর পরিবার সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জ থেকে এসে ওই এলাকায় বসবাস শুরু করেছিল। অভিযুক্ত পরিবারও একই ভবনের পাশের ফ্ল্যাটে থাকত।


এদিকে আদালতে হাজির করার পর প্রধান অভিযুক্ত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অপরদিকে, মামলার অপর আসামিকেও কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছে।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, সকালে শিশুটি বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে কৌশলে একটি ফ্ল্যাটে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে সন্দেহজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন এবং দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।


ঘটনার পর থেকে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এসআর

সম্পর্কিত খবর