[email protected] রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

৪৭ বছর পর ত্রিশালের ঐতিহাসিক ধরার খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬ ৮:৪০ এএম

সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের ত্রিশালের ঐতিহাসিক দরিরামপুর ধরার খাল দীর্ঘ ৪৭ বছর পর আবারও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১৯৭৯ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে খালটি খনন করেছিলেন, শনিবার (২৩ মে) দুপুরে সেই খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সফরে বিকেলে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর তিনদিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানমালারও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

​স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬-৭৭ সালে দেশব্যাপী শুরু হওয়া ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ব্যক্তিগত সফরে ত্রিশালে এসে স্থানীয় 'ধরার খাল' বা বৈলর খালের পরিমাপ ও খনন কাজ পরিচালনা করেছিলেন।

বর্তমানে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন এবং ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন জানান, জনপ্রত্যাশার প্রেক্ষিতে বাবার খনন করা খালের পুনঃখনন উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী স্থানীয়দের সাথে কথা বলবেন এবং পরবর্তীতে জেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।

​দুই দশক পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বাল্যস্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে দরিরামপুর স্কুল মাঠে রাষ্ট্রীয় এই আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ১৯১৪ সালে দারোগা রফিজ উল্লাহ কিশোর নজরুলকে আসানসোল থেকে ত্রিশালের কাজির শিমলা গ্রামে নিয়ে আসেন।

পরবর্তীতে পড়াশোনার সুবিধার জন্য তাকে নামাপাড়া বিচুতিয়া বেপারি বাড়িতে লজিং রাখা হয় এবং দরিরামপুর হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি কুমিল্লা চলে যান। কবির স্মৃতি ধরে রাখতে কাজির শিমলা দারোগা বাড়ি ও বিচুতিয়া বেপারি বাড়িতে দুটি নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র গড়ে তোলা হলেও বর্তমানে এগুলো অবকাঠামোগত সমস্যা, জনবল সংকট ও অবহেলায় রয়েছে।

​স্মৃতিকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও রফিজউল্লাহ দারোগার পরিবার থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে স্মৃতিকেন্দ্রের আধুনিকায়ন, নজরুলের ব্যবহৃত আসবাবপত্র সংরক্ষণ এবং যাতায়াতের ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান জানিয়েছেন, জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে তিনদিনব্যাপী আয়োজনে আলোচনা সভা, নজরুল মেলা, বইমেলা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে। অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্ন করতে ইতিমধ্যে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর