বর্ষার ভেজা আবহাওয়া ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ঘাম জমে ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দেয়।
এই সময়ে ছত্রাক সংক্রমণ (ফাঙ্গাল ইনফেকশন), ব্রণ ও ঘামাচির মতো ত্বকের উপদ্রব খুব সাধারণ বিষয়। বৃষ্টি ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ত্বকের ওপরের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যালেন্স বা প্রটেক্টিভ ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা থেকে তৈরি হয় বিভিন্ন রোগ। বর্ষাকালে ত্বকের এই সুরক্ষা স্তর রক্ষা ও ত্বক সতেজ রাখতে যে পাঁচটি বিষয় মেনে চলা জরুরি:
ত্বকের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে মৃদু যত্ন প্রয়োজন। ক্ষতিকর সাবান এড়িয়ে হালকা, পিএইচ-ব্যালান্সড (pH-balanced) ও সাবানমুক্ত ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করুন। এতে ত্বকের প্রয়োজনীয় সুরক্ষাকারী লিপিড বা তৈলাক্ত উপাদান নষ্ট না হয়েই জমে থাকা ঘাম, অতিরিক্ত তেল (সিবাম) ও ধূলিকণা পরিষ্কার হয়ে যায়।
বারবার মুখ ধোয়া, অতিরিক্ত স্ক্রাব করা, কড়া সাবান কিংবা খুব গরম পানির ব্যবহার ত্বককে রুক্ষ করে তোলে। এসব অভ্যাস ত্বকের উপরিভাগের পানি ও স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে সুরক্ষা স্তর নষ্ট করে দেয়।
ত্বকের ভেতরে আর্দ্রতা ধরে রাখতে ক্ষতিকর উপাদানমুক্ত, সুগন্ধহীন ও হালকা (নন-কমেডোজেনিক) ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে সেরামাইড, গ্লিসারিন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড অথবা নিয়াসিনামাইডসমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার ত্বকের সুরক্ষাবলয় পুনর্গঠনে সাহায্য করে।
মেঘলা বা বর্ষার দিনে অনেকেই সানস্ক্রিন মাখতে চান না, যা একটি বড় ভুল। মেঘের স্তর ভেদ করেও সুর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মি ত্বকে পৌঁছায় এবং পিগমেন্টেশন ও অকাল বার্ধক্যের মতো সমস্যা বাড়ায়। তাই বর্ষাতেও প্রতিদিন কমপক্ষে এসপিএফ ৩০ (SPF 30) বা তার বেশি মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।
শরীরের ভাঁজযুক্ত স্থানগুলো সবসময় শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে পোশাক দ্রুত বদলে ফেলুন এবং পাতলা, বাতাস চলাচল করে এমন সুতি কাপড় পরুন। কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করে নিজে নিজে চিকিৎসা করা থেকে বিরত থাকুন।
ত্বকে লালচে দাগ, ক্রমাগত চুলকানি, চামড়া ওঠা কিংবা ফুসকুড়ি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চর্মরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এসআর