[email protected] সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রসালো আমের পুষ্টিগুণ: প্রতিদিন আম খাওয়ার অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ জুন ২০২৬ ১০:৫২ এএম

সংগৃহীত ছবি

গ্রীষ্মের তাপদাহের মাঝেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে পাকা আমের মিষ্টি সুবাস। অনন্য স্বাদের জন্য আমকে ফলের রাজা বলা হলেও, এটি কেবল

 রসনাতৃপ্তিই করে না; বরং শরীরে পুষ্টির জোগান দিতেও এর জুড়ি মেলা ভার। আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, পটাশিয়াম, ফাইবার এবং শক্তিশালী সব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে সচল ও সুস্থ রাখতে দারুণ ভূমিকা রাখে।

হজম প্রক্রিয়া সচল রাখে:

আমে থাকা ফাইবার বা আঁশ হজমপ্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে বিদ্যমান 'পেকটিন' নামের দ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পুষ্টি জোগায়, যা সামগ্রিক পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

দৃষ্টিশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি:

আম বিটা-ক্যারোটিন, লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিনের চমৎকার উৎস, যা চোখের সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর। বিটা-ক্যারোটিন শরীরে প্রবেশ করে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়, যা দৃষ্টিশক্তি উন্নত করার পাশাপাশি ত্বক ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।

হাড়, জয়েন্ট ও হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা:

আমে থাকা ভিটামিন সি শরীরে কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা হাড়, ত্বক, লিগামেন্ট ও কার্টিলেজের গঠন মজবুত রাখতে প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে, এর পটাশিয়াম শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ কমায়।

আয়রন শোষণ ও পুষ্টির জোগান:

উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পাওয়া আয়রন যেন শরীর সহজে লুফে নিতে পারে, সেই কাজে সাহায্য করে আমের ভিটামিন সি। ফলে রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য আম বেশ উপকারী। এক কাপ (প্রায় ১৬৫ গ্রাম) কাটা আম থেকে প্রায় ৯৯ ক্যালরি, ২৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৩ গ্রাম ফাইবার, ১ গ্রাম প্রোটিন, ৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং ২৭৭ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম পাওয়া যায়।

সতর্কতা:

আম সবার জন্য উপকারী হলেও যাদের কাজুবাদাম বা এই জাতীয় খাবারে অ্যালার্জি আছে, তাদের আমের খোসা থেকে অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে। তাই খোসা ভালোভাবে ছাড়িয়ে আম খাওয়া নিরাপদ। এছাড়া ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে এবং প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবারের সঙ্গে মিলিয়ে আম খেতে পারেন। সুস্থ থাকতে যেকোনো পুষ্টিকর খাবারের মতোই আমও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

এসআর

সম্পর্কিত খবর