কৃত্রিম পানীয় বা এনার্জি ড্রিংকের ভিড়ে শরীরকে সতেজ ও সুস্থ রাখতে ডাবের পানির কোনো
বিকল্প নেই। ভিটামিন ও মিনারেলে ঠাসা এই প্রাকৃতিক পানীয় কেবল তৃষ্ণা মেটায় না, বরং শরীরের ভেতর থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে।
ডাবের পানি পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম, সোডিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজের মতো খনিজের একটি চমৎকার উৎস। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট, যা শরীরের লবণ ও পানির ভারসাম্য বজায় রাখে। এছাড়াও এটি ভিটামিন ‘সি’ ও ‘বি’ কমপ্লেক্স সমৃদ্ধ এবং সম্পূর্ণ ফ্যাটমুক্ত।
ডিহাইড্রেশন রোধ: গরমের ক্লান্তি বা অতিরিক্ত ঘামে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে ডাবের পানি দ্রুত শক্তি জোগায়।
হজমশক্তি বৃদ্ধি: এতে থাকা প্রাকৃতিক এনজাইম হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে। গ্যাস, অম্বল, কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদহজমের সমস্যায় এটি প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজ করে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: ডাবের পানিতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকায় এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
ত্বক ও চুলের যত্ন: শরীর থেকে টক্সিন বের করে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল রাখতে ডাবের পানি কার্যকর। ব্রণের সমস্যা কমাতেও এটি সহায়ক।
কখন ও কতটুকু পান করবেন?
সেরা সময়: বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে খালি পেটে ডাবের পানি পান করা সবচেয়ে বেশি উপকারী। এটি মেটাবলিজম বাড়াতে এবং সারাদিন শরীর সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
পরিমাণ: একজন সুস্থ ব্যক্তি দিনে ১ থেকে ২ গ্লাস (৩০০-৪০০ মিলিলিটার) ডাবের পানি পান করতে পারেন।
সতর্কতা: প্যাকেটজাত পানীয়র বদলে তাজা ডাবের পানি পান করা শ্রেয়। তবে ডায়াবেটিস বা কিডনি সমস্যা থাকলে নিয়মিত পান করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
"ডাবের পানি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার পাশাপাশি হজম ও হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় দারুণ কাজ করে। তবে সর্বোচ্চ উপকার পেতে তাজা ডাব বেছে নেওয়া জরুরি।" — পুষ্টি বিশেষজ্ঞ
এসআর
মন্তব্য করুন: