পেটের গ্যাস, অম্বল বা পেট ফাঁপা অনেকেরই নিত্যদিনের সমস্যা। বিশেষ করে রাতে ভারী
খাবারের পর অস্বস্তি ও ঘুমের ব্যাঘাত থেকে মুক্তি পেতে প্রাকৃতিক ভেষজ হিসেবে আদা যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদায় থাকা জিঞ্জারল ও শোগাওল নামক সক্রিয় উপাদান হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে এবং পাকস্থলীর পেশি শিথিল করতে অত্যন্ত কার্যকর।
হজম ত্বরান্বিত করা: আদা হজম রস নিঃসরণে সহায়তা করে, ফলে খাবার দ্রুত হজম হয় এবং পেটে গ্যাস জমার প্রবণতা কমে।
পাকস্থলীর আরাম: এটি পাকস্থলীর অস্বস্তি কমিয়ে খাবারকে অন্ত্রে পাঠাতে সাহায্য করে।
খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও পরিমাণ
গ্যাস কমাতে আদার রস খাওয়ার কার্যকরী উপায়গুলো হলো:
প্রস্তুত প্রণালি: এক চা চামচ তাজা আদা কুচি থেকে রস বের করে সামান্য কুসুম গরম পানি মিশিয়ে নিন। স্বাদ ও গুণ বাড়াতে সামান্য মধু বা লেবুর রস যোগ করা যেতে পারে।
সময়: রাতের খাবারের ২০-৩০ মিনিট পর এটি খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। তবে ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে খাওয়া উচিত।
সতর্কতা: প্রতিদিন ১ চা চামচের বেশি আদার রস না খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত বা খালি পেটে খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা উল্টো বাড়তে পারে।
জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন
শুধু আদার রস খেলেই হবে না, গ্যাসের সমস্যা স্থায়ীভাবে কমাতে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরি:
রাতে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলা।
খাবার ভালোমতো চিবিয়ে ধীরে ধীরে খাওয়া।
খাওয়ার পরপরই শুয়ে না পড়ে হালকা হাঁটাহাঁটি করা।
প্রাকৃতিক হলেও সবার জন্য আদার রস নিয়মিত খাওয়া নিরাপদ নাও হতে পারে। বিশেষ করে:
যাদের আলসার, অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি বা পিত্তথলির সমস্যা আছে।
গর্ভবতী নারী অথবা যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করছেন।
যেকোনো সমস্যায় দীর্ঘদিন ভুগলে ঘরোয়া সমাধানের ওপর নির্ভর না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এসআর
মন্তব্য করুন: