বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর প্রতিটি উৎসবেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো মিষ্টি। তবে
আধুনিক জীবনে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং ডায়াবেটিসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই প্রিয় এই খাবারটি থেকে দূরে থাকছেন। ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয় কিংবা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের দুশ্চিন্তায় মিষ্টি খাওয়া অনেকের কাছেই এখন এক প্রকার বিলাসিতা।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, মিষ্টির প্রতি এই তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা 'সুগার ক্রেভিং' মেটানো সম্ভব স্বাস্থ্যকর পথেই। এমন কিছু প্রাকৃতিক খাবার আছে যা মিষ্টির স্বাদও দেবে, আবার শরীরও রাখবে চনমনে।
১. প্রাকৃতিক শক্তির আধার: নানা রকম ফল
মিষ্টির স্বাদ মেটাতে ফলের চেয়ে ভালো বিকল্প আর নেই। আম, কলা, আনারস কিংবা আঙুরের মতো ফলগুলোতে রয়েছে প্রাকৃতিক শর্করা (ফ্রুক্টোজ)। মিষ্টিজাতীয় খাবারের পরিবর্তে এক বাটি তাজা ফল খেলে শরীরে প্রয়োজনীয় ফাইবার বা আঁশ পৌঁছায়, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে বাড়তি ক্যালোরি নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
২. ডার্ক চকোলেট: হার্ট ও মন উভয়ের বন্ধু
রসগোল্লা বা চমচম খাওয়ার বদলে এক টুকরো ডার্ক চকোলেট হতে পারে দারুণ বিকল্প। ডার্ক চকোলেটে সাধারণ চকোলেটের তুলনায় চিনি অনেক কম থাকে এবং এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়ক। দিনে এক-দুই টুকরো ডার্ক চকোলেট খেলে মিষ্টি খাওয়ার তৃপ্তি যেমন পাওয়া যায়, তেমনি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।
৩. প্রোটিন বার: স্বাদ ও স্বাস্থ্যের ভারসাম্য
যারা ডায়েট করছেন বা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের জন্য প্রোটিন বার একটি আদর্শ সমাধান। এতে চিনির পরিমাণ খুব সামান্য থাকে এবং প্রোটিনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এটি পেশি গঠনে সাহায্য করে। প্রোটিন বার খেলে মিষ্টির স্বাদ পাওয়ার পাশাপাশি শরীর ভেতর থেকে শক্তিশালী ও সতেজ থাকে। এতে ওজন বাড়ার ভয়ও থাকে না।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:
মিষ্টির বিকল্প হিসেবে এসব খাবার বেছে নিলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। তবে যেকোনো খাবারই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া জরুরি।
এসআর
মন্তব্য করুন: