বিছানায় শুয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা বর্তমান প্রজন্মের কাছে একটি
বিছানায় শুয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা বর্তমান প্রজন্মের কাছে একটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমানোর ঠিক আগে এই স্ক্রিন টাইম আপনার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
কেন ঘুমের আগে ফোন ব্যবহার ক্ষতিকর?
মেলাটোনিন উৎপাদনে বাধা: স্মার্টফোনের স্ক্রিন থেকে যে নীল আলো (Blue Light) নির্গত হয়, তা মস্তিষ্ককে দিনের আলোর বিভ্রান্তি দেয়। ফলে শরীরে ঘুম আনার হরমোন ‘মেলাটোনিন’ নিঃসরণ কমে যায় এবং ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়।
অনিদ্রার ঝুঁকি: স্ক্রিনের উজ্জ্বল আলো এবং ইন্টারনেটের উদ্দীপক কন্টেন্ট মস্তিষ্ককে শান্ত হতে দেয় না। মাত্র ২০-৩০ মিনিটের স্ক্রল আপনার গভীর ঘুমকে দীর্ঘ সময় পিছিয়ে দিতে পারে, যা ধীরে ধীরে অনিদ্রায় (Insomnia) রূপ নেয়।
মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব
স্মৃতিশক্তি ও মেজাজের পরিবর্তন: পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুমের অভাবে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়, মনোযোগের ক্ষমতা কমে এবং মানুষের মধ্যে খিটখিটে মেজাজ বা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
গভীর ঘুমের অভাব: রাতে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে আপনার ঘুমের মান (Quality of Sleep) কমে যায়। ফলে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরেও পরের দিন সকালে ক্লান্ত বোধ হয় এবং মাথাব্যথা বা চোখের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়।
সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি
ধারাবাহিকভাবে ঘুমের এই ব্যাঘাত আপনার পুরো শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে:
শরীরের ওজন বৃদ্ধি পাওয়া।
রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হওয়া।
উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি হওয়া।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া।
সুস্থ থাকতে এবং গভীর ঘুম নিশ্চিত করতে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
এসআর
মন্তব্য করুন: