করলা স্বাদে তীব্র তিক্ত হলেও এর উপকারিতার কারণে বহুদিন ধরেই এটি ঘরোয়া স্বাস্থ্যচর্চার অংশ।
বিশেষ করে বিপাক ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে করলার রসের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। নিয়মিত ও পরিমিতভাবে পান করলে করলার রস ধীরে ধীরে শরীরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিচে প্রতিদিন করলার রস পান করার সম্ভাব্য উপকারিতা তুলে ধরা হলো—
১. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
করলায় থাকা প্রাকৃতিক উপাদান যেমন চ্যারান্টিন ও পলিপেপটাইড-পি শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর ফলে রক্তে গ্লুকোজের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং অতিরিক্ত শর্করা চর্বিতে রূপান্তরিত হওয়ার ঝুঁকি কমে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এটি সহায়ক হতে পারে।
২. হজমশক্তি ও অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে
করলার তিক্ত স্বাদ পাচনতন্ত্রকে সক্রিয় করে, যা হজম এনজাইম নিঃসরণে সাহায্য করে। নিয়মিত করলার রস পান করলে পেট ফাঁপা, বদহজমের মতো সমস্যা কমতে পারে। এতে থাকা ফাইবার অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। তবে সংবেদনশীল পাকস্থলীর ক্ষেত্রে খালি পেটে অতিরিক্ত পান করা এড়িয়ে চলা উচিত।
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে
কম ক্যালোরি ও বেশি ফাইবার থাকার কারণে করলার রস দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে পারে। এটি অপ্রয়োজনীয় খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তবে একে ওজন কমানোর একমাত্র উপায় না ভেবে সহায়ক অভ্যাস হিসেবে গ্রহণ করা ভালো।
৪. শরীরকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে
করলায় থাকা ভিটামিন সি ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালের প্রভাব থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত গ্রহণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে কোষের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
৫. হরমোন ও বিপাকের ভারসাম্য রক্ষা করে
করলার রস ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে, যা বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং প্রদাহ হ্রাস করতেও ভূমিকা রাখতে পারে, ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। তবে যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এসআর
মন্তব্য করুন: