বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তার বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
এর আগে চার দিনের রিমান্ড শেষে এদিন দিশাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন জানায়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দিশার কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে সেগুলো যাচাই করা প্রয়োজন।
আবেদন অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিন ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সঙ্গে উত্তরা এলাকার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন দিশা। এর আগে সন্ধ্যায় তারা সিপি ফাইভ স্টার নামের একটি ফাস্টফুডের দোকানেও যান। এ ছাড়া মোটরসাইকেল গ্যারেজসহ বিভিন্ন স্থানে দুজনের একসঙ্গে যাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে জিজ্ঞাসাবাদে।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় দিশা কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। পাশাপাশি মামলার আরেক সন্দেহভাজন আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে তার বক্তব্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্টেও দিশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দিশাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা সাতটি বিষয় তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ঘটনার দিন তাহসিফ ও দিশার মধ্যে কোনো বিরোধ হয়েছিল কি না, তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল কি না, ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, অন্য জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, আলামত উদ্ধার এবং দীপের বক্তব্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখা।
গত শনিবার গভীর রাতে রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
যেভাবে উদ্ধার হয় তাহসিফের মরদেহ
গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এর আগে ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন তিনি।
এ ঘটনায় প্রথমে দীপের নাম সামনে আসে। তিনি জানিয়েছিলেন, একটি রেস্তোরাঁয় তাহসিফের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাদের আলাদা হয়ে যাওয়া হয়।
পরে ৩০ অক্টোবর রাতে তাহসিফের বাবা হত্যা মামলা দায়ের করলে দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেই মেয়াদ শেষে বুধবার তাকে আরও তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ওই এলাকায় তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন দীপ বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মামলার প্রকৃত ঘটনা এবং তাহসিফের মৃত্যুর পেছনের কারণ উদঘাটনে দিশা ও দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এফ/ডি