[email protected] শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ কার্তিক ১৪৩৩

দীপের দাবি

পুলিশের ধাওয়ায় নদীতে ঝাঁপ দেয় তাহসিফ, আমি পালিয়ে আসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ৪:০৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য দিয়েছেন।

তার দাবি, ঘটনার রাতে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করলে প্রাণ বাঁচাতে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন।

এ সময় তিনি নিজে সেখান থেকে পালিয়ে যান। ধাওয়াকারীরা পুলিশের লোক ছিল বলেও দাবি করেছেন দীপ।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া দীপের এসব বক্তব্য যাচাই করে দেখছেন তদন্তকারীরা।

অন্যদিকে, তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পিবিআই।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের পর উত্তরখান থানায় নেওয়া হয়।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় নৌ পুলিশের তদন্তে সহায়তার পাশাপাশি ছায়াতদন্ত চালাচ্ছে পিবিআই।

পিবিআই সদর দপ্তরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ জানান, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

তবে প্রাথমিকভাবে এটি তার ব্যবহৃত বাইক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিখোঁজ হওয়ার আগে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফের মোটরসাইকেলের পেছনে নম্বরপ্লেট দেখা যায়নি। উদ্ধার হওয়া বাইকটিরও নম্বরপ্লেট ছিল না।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পিবিআই কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রাজবাড়ী ঘাট এলাকাটি মাদক কারবারিদের আনাগোনার জন্য পরিচিত।

তাদের ধারণা, ওই এলাকায় মাদক কারবারি কিংবা অন্য কোনো পক্ষের ধাওয়ার মুখে পড়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন।

পরে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে দীপের দেওয়া পুলিশের লোকজনের ধাওয়ার তথ্যও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিসিটিভি ফুটেজ ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তাহসিফ। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মায়ের মোবাইল ফোনে পাঠানো শেষ ভয়েস মেসেজে দ্রুত বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন বুধবার বিকেলে তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

মরদেহের সঙ্গে হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা জিনিসপত্র পাওয়া গেলেও মোটরসাইকেলটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই মেট্রো উত্তর। তিনি তাহসিফের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ছোট ভাই হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

উত্তরার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের গ্যারেজের সামনে দুজনের সাক্ষাতের পর আলাদা মোটরসাইকেলে করে এলাকা ছাড়েন তাহসিফ ও দীপ।

বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষে উত্তরায় তাহসিফকে দাফন করা হয়। তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ছেলের মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, এটি কোনোভাবেই আত্মহত্যা হতে পারে না। সরকারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করা হলে প্রকৃত অপরাধীরা শনাক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর