কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় দুই কিশোরসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তদন্তে চারজনের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
অপ্রতিমের বাবা ও মামলার বাদী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানিয়েছেন, অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে ফোন করে অবহিত করেছেন। ছেলেকে হারিয়ে পরিবার গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত বিচার শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মামলাটির তদন্ত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ। অভিযোগপত্রে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মো. সিয়াম (১৯) এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশু আইন অনুযায়ী, দুই কিশোরকে শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় তুহিনের সঙ্গে সিয়ামও যুক্ত ছিলেন। তিনজনের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, সিয়ামের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা ও সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে অভিযোগপত্রের বিস্তারিত তথ্য এখনো পুরোপুরি জানতে পারেনি অপ্রতিমের পরিবার।
দুই কিশোরের প্রকৃত বয়স নিয়ে পরিবারের আগে থেকেই প্রশ্ন রয়েছে। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বয়স নির্ধারণের দাবিও জানিয়েছিল তারা। অভিযোগপত্রের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে পরিবার।
পুলিশের ভাষ্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ। তবে দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির কারণে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পরপরই আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হয়নি।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরের কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। সে বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ প্রথমে তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্তে সিয়ামের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছিল।
নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তুহিনকে শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে অন্যদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য।
এখন অভিযোগপত্রের পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে অপ্রতিমের পরিবার। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই তাদের প্রধান প্রত্যাশা।
এসআর