[email protected] বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের সঙ্গে পলকের বাকবিতণ্ডা, কথা কম বলার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ৪:৩৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষীর জবানবন্দি থেকে একটি অংশ বাদ দেওয়ার আবেদনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়েছেন সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

এ সময় প্রসিকিউশনকে উদ্দেশ করে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন?’ পরে ‘ভয় পাইছে’ মন্তব্য করায় তাকে সংযত হয়ে কথা বলার নির্দেশ দেন আদালত।

 

রোববার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ ঘটনা ঘটে। একই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের বিরুদ্ধে দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বিটিআরসির কর্মকর্তা মাহদী আমিন।

 

সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাক্ষীর একটি বক্তব্য ভূতাপেক্ষ কি না, তা জানতে চান। পরে সাক্ষী বক্তব্যটি ভূতাপেক্ষ হবে বলে জানান। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক প্রসিকিউশনের আচরণ নিয়ে আপত্তি তোলেন। তিনি বলেন, মামলার বিচার চলছে, তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধরে কথা বলা উচিত।

 

এর জবাবে প্রসিকিউটর বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে রয়েছেন। কোনো বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন হলে তাঁদের মাধ্যমে তা উপস্থাপন করা যেতে পারে। আদালতের অনুমতি ছাড়া আসামির এভাবে কথা বলার সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

পরে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। ট্রাইব্যুনাল এ ধরনের মন্তব্যকে আপত্তিকর বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে পলককে সতর্ক করে আদালত জানান, কথা বলতে হলে অনুমতি নিতে হবে। এ সময় বিচারক বলেন, ‘রেগে গেলেন তো, হেরে গেলেন।’ আদালত আরও স্পষ্ট করেন, মামলার বিষয়ে কারও ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে বিষয়টি দেখা উচিত নয়।

 

সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী অংশে ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ উঠে আসে। সাক্ষী মাহদী আমিন জানান, তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী পলকের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে এনটিএমসির তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

 

তবে জবানবন্দির এ অংশ মামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়—এমন যুক্তিতে বক্তব্যটি বাদ দেওয়ার আবেদন জানায় প্রসিকিউশন। সাক্ষীও এ বিষয়ে তাদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হন।

 

এ সময় পলক ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’ মন্তব্য করলে ট্রাইব্যুনাল তাকে বসতে বলেন এবং কম কথা বলার নির্দেশ দেন। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে পলক যুক্তি দেন, প্রসিকিউশনের প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। ফলে ওই বক্তব্য বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।

 

সাক্ষী মাহদী আমিন জানান, সারা দেশে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে তাঁর সরাসরি জানা নেই। তবে ২৮ জুলাইয়ের বৈঠকের মাধ্যমে ইন্টারনেট চালুর বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন।

 

পলকের পক্ষে আদালতে আইনজীবী লিটন আহমেদ লড়ছেন। অন্যদিকে, পলাতক থাকায় জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মনজুর আলম।

 

মামলার অভিযোগ

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জয় ও পলকের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে পলকের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সদস্যদের হামলার অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া ইন্টারনেট বন্ধ, মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি এবং হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। প্রসিকিউশনের দাবি, এসব ঘটনায় রাসেল ও মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন নিহত হন। পাশাপাশি উত্তরায় ৩৪ জনকে হত্যায় সহায়তার অভিযোগও রয়েছে।

 

চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি জয় ও পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর আদালত প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর