[email protected] সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ধর্ষণের পর গামছা পেঁচিয়ে তাজমিনকে হত্যা, একাই জড়িত সুমন: পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১:২৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন একাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর গভীর রাতে কুমিল্লার পদুয়ারবাজারের হোটেল নূরজাহানের সামনে থেকে রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন।

তবে গন্তব্যে না গিয়ে চালক সুমন তাকে নিয়ে অন্য পথে যেতে থাকেন।

বিষয়টি বুঝতে পেরে তাজমিন নিজের লাইভ লোকেশন পাঠায় এবং হোয়াটসঅ্যাপে বাবাকে বার্তা দিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে।

পরে অটোরিকশাটি বিজরা, রসুলপুর ও শিকারীপাড়া হয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকায় যায়। পুলিশের দাবি, সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন সুমন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে।

সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল না।

তার বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত। পরিবারটি নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে।

পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। ৭ অক্টোবর রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়।

পরে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেয় সে। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় বাবা ওই বার্তা তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পাননি।

ঘটনাস্থলের কাছ থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করে পুলিশ।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তের অংশ হিসেবে অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এসআর

সম্পর্কিত খবর