কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড জনসম্মুখে এলে তাকে আইনি বৈধতা দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক
তদন্ত সাজানো হতো বলে ট্রাইব্যুনালে নিজের জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এ নিয়ে মামলায় তৃতীয় দিনের মতো তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো। অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী রোববার (১১ অক্টোবর) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিন সকাল থেকে ১৫তম সাক্ষী হিসেবে জিয়াউলের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দেন রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড জনসম্মুখে এলেই তা বৈধ করার উদ্দেশ্যে লোকদেখানো প্রশাসনিক নির্বাহী তদন্ত পরিচালনা করা হতো। প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতেই এমন নিয়ন্ত্রিত তদন্ত ব্যবহার করা হতো।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, এই ধরনের নিয়ন্ত্রিত প্রতিবেদন তৈরির উদ্দেশ্যে প্রকৃত মৃত্যুর কারণ গোপন করা হতো এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মিথ্যা ও ভুল ময়নাতদন্ত ও পুলিশ প্রতিবেদন তৈরিতে বাধ্য করা হতো। মূল উদ্দেশ্য ছিল মূল অপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়া।
প্রসিকিউশন জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং ওই দিন তিনি আংশিক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তদন্তের বিভিন্ন ধাপে কোথায় কোথায় যাওয়া হয়েছে, কী কী তথ্য-উপাত্ত ও আলামত জব্দ করা হয়েছে এবং সেগুলোর সঙ্গে মামলার অভিযোগের কীভাবে সম্পৃক্ততা রয়েছে—তা বিস্তারিত তুলে ধরেন রফিকুল ইসলাম।
এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর মামলায় সাক্ষ্য দেন কামরুল ইসলাম। তিনি তদন্তকালীন উদ্ধারকৃত বিভিন্ন আলামতের তথ্য ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন। একই দিনে মামলার ১৩তম সাক্ষী ও শেষ চাক্ষুষ সাক্ষী, র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরাও সম্পন্ন হয়।
এই মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে:
১. ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা।
২. ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা।
৩. একই মেয়াদে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে বনদস্যু দমনের নামে মাসুদসহ আরও ৫০ জনকে হত্যা।
এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় এবং প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়।
এসআর