পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিকতা ও সেবার মানসিকতা নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
কর্মশালার উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, জনমুখী পুলিশিংয়ের প্রধান ভিত্তি হচ্ছে জনগণের আস্থা অর্জন করা এবং সেই আস্থাকে কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ দেওয়া। জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠায় কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আইজিপি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের মধ্য থেকে জাতীয় কাবাডি দল গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘প্রথম কমিউনিটি পুলিশিং কাবাডি টুর্নামেন্ট-২০২৬’ সারাদেশে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
কাবাডি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা ও গৌরবের অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে আরও সহজে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে জনগণকে সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল কমিউনিটি গড়ে তুলতে জনগণের সঙ্গে পুলিশের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে হবে। পারস্পরিক আস্থা তৈরি করে সম্মিলিতভাবে অপরাধ প্রতিরোধের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর কাজী মো. ফজলুল করিম ‘বাংলাদেশে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং পুনর্গঠন : একটি জনমুখী, প্রতিরোধমূলক ও গোয়েন্দা-তথ্যনির্ভর পুলিশিং কাঠামোর পথে’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
বিদ্যমান অভিজ্ঞতা ও অর্জনের আলোকে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংকে আরও প্রতিরোধমূলক, জবাবদিহিমূলক, তথ্যনির্ভর এবং জনসম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান ও ভাইস-রেক্টর ড. মো. আব্দুস সোবহান।
তারা কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংকে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন বাস্তব দিক ও করণীয় তুলে ধরেন।
কর্মশালায় মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সুপারিশ সংগ্রহ করে বাংলাদেশ পুলিশের কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংকে আরও কার্যকরভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বাস্তবমুখী ও বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালায় বাংলাদেশ পুলিশের কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।
এসআর