ঢাকার দোহার উপজেলার জয়পাড়া বাজার এলাকায় বিএসসি ডেন্টাল ডিগ্রিধারী গ্র্যাজুয়েটদের পরিচালিত তিনটি ডেন্টাল চেম্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও অর্থদণ্ড নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়পাড়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওসীনা আরিফের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে বিএসসি ডেন্টাল গ্র্যাজুয়েটদের পরিচালিত তিনটি ডেন্টাল চেম্বারে মোট ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযানে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল সার্জন ডা. মো. আব্দুল আজিজ ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পারভীন সুলতানা সহযোগিতা করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিএসসি ডেন্টাল ডিগ্রিধারী গ্র্যাজুয়েটদের বিষয়ে আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও আইনি অবস্থান থাকার পরও সংশ্লিষ্ট আইন ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তাদের আরও অভিযোগ, অভিযানের সময় বিএসসি ডেন্টাল গ্র্যাজুয়েটদের ‘ভুয়া চিকিৎসক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে হয়রানি করা হয়।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাকে বলেন, ‘বিএমডিসি অ্যাক্ট ২০১০ অনুযায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ নামের আগে “ডাক্তার” লিখতে পারবেন না—এ বিষয়ে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।’
অভিযোগকারীদের দাবি, দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল সার্জন ডা. মো. আব্দুল আজিজ সরকারি চাকরির পাশাপাশি দোহার জেনারেল হাসপাতালে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেন। তাদের অভিযোগ, আশপাশের বিএসসি ডেন্টাল গ্র্যাজুয়েটদের চেম্বারে রোগীর উপস্থিতি বেশি থাকায় ব্যক্তিগত পেশাগত বিরোধ বা স্বার্থের কারণে ডা. আজিজ সংশ্লিষ্ট অভিযান পরিচালনায় প্রভাব বিস্তার করেছেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. মো. আব্দুল আজিজ প্রতিদিনের বাংলাকে বলেন, ‘আমি আইন অনুযায়ী সরকারি দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র। আইনের শাসন সর্বদা চলমান থাকবে।’
অভিযান ও জরিমানার বিষয়ে ভুক্তভোগী বিএসসি ডেন্টাল গ্র্যাজুয়েটরা বলছেন, আদালতের নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রতিকার দাবি করেছেন।
এসআর