[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩

মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১:০৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয় আসামি হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান। রায় ঘোষণার সময় সাত আসামিই পলাতক ছিলেন।

মামলাটির তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। প্রায় ছয় মাসের তদন্ত শেষে ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

পরে যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। সেদিনই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেন।

পরবর্তী সময়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগসহ বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য এবং প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ এ মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। এর মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের পর্ব শেষ হয়। এরপর ৪ আগস্ট থেকে যুক্তিতর্ক শুরু করে রাষ্ট্রপক্ষ।

নয় কার্যদিবস ধরে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর ১৭ আগস্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

একই দিন ১৫ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। মামলায় মোট ১২৩ সিরিজের নথি ও দলিল প্রদর্শন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা বিভিন্ন পর্যায়ে নির্দেশনা, উসকানি ও প্ররোচনা দিয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে নামানো, সহিংসতার পরিকল্পনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সংগঠনের মাধ্যমে দমন-পীড়নের অভিযোগও আনা হয়।

প্রসিকিউশনের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন স্থানে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর আওতায় মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ।

মামলায় ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পরিকল্পিত হামলা, হত্যা ও নির্যাতন চালানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা ও সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে এসব অপরাধে তার ভূমিকা ছিল।

অন্য আসামিদের বিরুদ্ধেও নিজ নিজ সংগঠন ও প্রভাবাধীন ব্যক্তিদের মাধ্যমে আন্দোলন দমন, হামলা, হত্যা ও নির্যাতনে নির্দেশনা, উসকানি, সহায়তা এবং সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন, অন্যান্য অমানবিক আচরণ, ষড়যন্ত্র ও অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনার মতো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য।

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর