জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার তদন্ত শেষ করেছে পুলিশ।
মামলা দুটি হলো—নাদিম হত্যাচেষ্টা এবং রাজমিস্ত্রি মো. বাবুল মৃধা হত্যা। যাত্রাবাড়ী থানার দুই উপপরিদর্শক (এসআই) পৃথকভাবে মামলাগুলোর তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের এসআই মহিন উদ্দিন জানিয়েছেন, অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আদালতে শিগগিরই শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আসামি করে গত ২৭ জুলাই অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইব্রাহিম খলিল।
এই মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে আসামি করা হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ অন্যদের।
তদন্তে মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় ১০৫ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন ও আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও সচিব আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সাবেক সদস্য ও সাবেক সচিব ফয়েজ আহমেদ, সাবেক মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও আহমেদ কায়কাউস, সাবেক সিনিয়র সচিব মেজবাউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক আইজিপি শহিদুল হক, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান এবং দৈনিক স্টার লাইনের নির্বাহী সম্পাদক মাঈন উদ্দিন।
অন্যদিকে, জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি মো. বাবুল মৃধা নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩৩ জনকে আসামি করে গত ১৩ আগস্ট অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মাহমুদুল হাসান ইরফান আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই মামলায় সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ৩৯ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
বাবুল মৃধা হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, যাত্রাবাড়ী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা, পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ, বরিশাল-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথ এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ।
এ মামলার আসামিদের তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ মুন্না, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজল কুণ্ড।
অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া ৩৯ জনের মধ্যে রয়েছেন ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আতিকুর রহমান, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান, যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অর্থ দাস, রবিন খান ওরফে মেকআপ রবিন, মনির আহমেদ এবং লুৎফুর রহমান।
এসআর