[email protected] শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

এবার পাটোয়ারী-সারজিসসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৬ এএম

সংগৃহীত ছবি

হবিগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদ এলাকায় এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোকসভায় অংশ নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সেই সময় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরীসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের ওপর হামলা চালায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও দাবি করা হয়েছে, হামলায় জেলা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন।

একই সঙ্গে কয়েকটি মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মামলার নামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, নুর আলম চৌধুরী, ফখরুল জাকির, আ. হাই কামাল, রুহাম গাজী, মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, নাহিদ উদ্দিন তারেক, আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।

অন্যদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে এনসিপিও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। দলটির দাবি, ২৮ জুলাই পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে ছাত্রদলের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। তাদের একজন একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলেও এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়।

এনসিপির বক্তব্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম নিরাপত্তার জন্য একটি ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় এবং রাতেই নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজারে পৌঁছে দেয়।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানিয়েছেন, অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে জেলা ছাত্রদলের নেতারাও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই ঘটনাকে ঘিরে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মামলা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর