রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিপক্ষকে কোনো ধরনের আইনি সহায়তা বা সেবা না দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা।
শুক্রবার (২২ মে) সকালে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান। তিনি জানান, সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির একটি জুম মিটিং শেষে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার এই মামলায় আসামিপক্ষে সমিতির কোনো সদস্য আদালতে অংশ নেবেন না।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী, আট বছর বয়সী শিশু রামিসার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত বুধবার (২০ মে) ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না তাকে কৌশলে তাদের রুমে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সোহেলদের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি।
এতে সন্দেহ হলে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং একটি বড় বালতির ভেতর তার বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল হোতা সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এসআর