ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) নেতৃত্বে ফুঁসে উঠেছে বিক্ষোভ।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থানের সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, দুর্নীতি, আবাসন সংকট এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন তরুণেরা। কোথাও এই আন্দোলন রূপ নিয়েছে সহিংসতায়, আবার কোথাও এর মাধ্যমে এসেছে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে এবং ২০২৫ সালে নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক আন্দোলনের পর, চলতি বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও জেন-জির বিক্ষোভ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্যারিসের উপকণ্ঠ থেকে সার্বিয়ার বেলগ্রেড, ইতালির মিলান থেকে আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানা—বিভিন্ন শহরে হাজারো তরুণ অংশ নিচ্ছেন এসব বিক্ষোভে।
বিক্ষোভের মূল কারণসমূহ:
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণদের এই ক্ষোভের পেছনে রয়েছে তীব্র অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা। প্রধান কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
জীবনযাত্রার ব্যয় ও দারিদ্র্য ঝুঁকি: ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০২৫ সালের জরিপ অনুযায়ী, ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সিদের ৪০ শতাংশের প্রধান উদ্বেগ মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়। ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সিদের ২৬ শতাংশেরও বেশি মানুষ দারিদ্র্য বা সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
পেনশন ও বাজেটের অসমতা: বয়স্ক জনসংখ্যার আর্থিক ব্যয়ভার তরুণদের ওপর চাপছে। যেমন—ফ্রান্স ও ইতালিতে জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ (প্রায় ১৬ শতাংশ পর্যন্ত) সরকারি পেনশনে ব্যয় করা হয়। ফ্রান্সের শিক্ষা খাতের বাজেটের একটি বড় অংশ পেনশন খাতে চলে যাওয়ায় শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যয়ের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা: ফ্রান্সে স্কুল ভবনে ফাটল, ছাদ ধসে পড়া কিংবা ইঁদুরের উপদ্রবের মতো ঘটনায় শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছে। তাদের অভিযোগ, নীতিনির্ধারকরা তরুণদের দাবিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেন না।
দুর্নীতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা: আলবেনিয়াসহ বিভিন্ন দেশে দুর্নীতির বিস্তার এবং মেধার সঠিক মূল্যায়নের অভাবে তরুণদের একটি বড় অংশ নিজেদের ভবিষ্যৎ দেশের বাইরে খুঁজছে। সার্বিয়ায় অবশ্য দীর্ঘ দুই বছর আন্দোলনের পর সম্প্রতি নির্বাচনের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসক আলেক্সান্দার ভুচিচের পতন ঘটিয়েছেন তরুণ শিক্ষার্থীরা।
তরুণদের মূল্যায়ন:
ইতালির মিলানের ২১ বছর বয়সি শিক্ষার্থী কিয়ারার মতে, শাসকশ্রেণি তাদের প্রজন্মের সবচেয়ে বড় যে ক্ষতি করেছে, তা হলো ভবিষ্যৎ কল্পনা করার ও স্বপ্ন দেখার ক্ষমতাটুকুও কেড়ে নেওয়া। বেলজিয়ামের শিক্ষার্থী মায়া গুরদেল মনে করেন, শান্তিপূর্ণ উপায়ে দাবি না মানায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই তরুণেরদের জোরালো প্রতিবাদের পথ বেছে নিতে হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও এশিয়ার পর ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই জেন-জি আন্দোলনের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ নির্ভর করছে সরকারগুলো তরুণদের এসব ন্যায্য দাবির প্রেক্ষিতে কেমন নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপ নেয় তার ওপর।
এসআর