[email protected] বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৫:০২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।

কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা তৈরি হলেও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার খবর বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিনের শুরুতে দরপতন হলেও পরে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪০ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বেড়ে ১১৬.২৪ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩০ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২.০৭ ডলারে দাঁড়ায়।

 

এর আগে সোমবার দিনের শুরুতে দুই ধরনের তেলের দামই প্রায় ১ শতাংশ কমেছিল।

 

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ হিসেবে সোমবার তেহরানে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে দেশগুলো একমত হয়েছে।

 

নয়াদিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসএস ওয়েলথস্ট্রিটের প্রতিষ্ঠাতা সুগন্ধা সচদেবের মতে, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখনো চড়া রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় কিছু বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নিয়েছিলেন। এতে দিনের শুরুতে তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়।

 

তবে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় নতুন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। এ ধরনের ঘটনায় আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

 

গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি তেলবাহী জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এটি ছিল এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ পর্যায়। সোমবারও দাম ওই স্তরে পৌঁছেছিল।

 

ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসে হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। ২০১৭ সাল থেকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে ওই অঞ্চলে হামলার পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।

 

বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে এখানে নৌ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

 

এএনজেড রিসার্চের বিশ্লেষণেও তেলের বাজারে একাধিক ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে। তাদের মতে, সরবরাহব্যবস্থা, পরিবহন, মজুত এবং তেল পরিশোধন—সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো কমেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। পাশাপাশি, বিশ্ববাজারে পরিশোধিত জ্বালানির মজুত গত পাঁচ বছরের গড়ের চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ কম রয়েছে।

 

সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক তৎপরতা বাজারে সাময়িক স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি করলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি এবং জ্বালানি স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা বিশ্ববাজারে তেলের দামকে অস্থির করে রেখেছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর