ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন প্রদেশের ওলেশকি শহরে এক স্থানীয় যুদ্ধবিরতি ঘোষিত
হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ও উদ্যোগে অর্জিত এই সিদ্ধান্তকে ক্রেমলিন এবং ইউক্রেন উভয়েই সমর্থন করেছে।
প্রেক্ষাপট ও মানবিক সংকট: যুদ্ধের কারণে ওলেশকি শহরটি কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল এবং সেখানে খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকট তৈরি হয়। মানবিক বিপর্যয়ের মুখে থাকা শহরটিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছিল না।
মেলানিয়া ট্রাম্পের ভূমিকা ও উদ্যোগ: মেলানিয়া ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয় যে, শহরটির সংকটজনক পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তিনি সরাসরি রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয় করেছেন।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ও শর্তাবলি: হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কথা জানানো হয়েছে, যা কেবল ওলেশকি শহরের স্থানীয় এলাকােই সীমাবদ্ধ থাকবে। (রাশিয়া ও ইউক্রেনীয় পক্ষ থেকে ২৭ অক্টোবর থেকে কার্যকরের কথা জানানো হয়েছে)।
মানবিক করিডোর ও স্থানান্তর: ইউক্রেনের প্রধান আলোচক ডেভিড আরাখামিয়া ও ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নিশ্চিত করেছেন যে, একটি নির্দিষ্ট মানবিক করিডোর তৈরি করা হবে। যার মাধ্যমে আটকে পড়া বাসিন্দারা নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী ইউক্রেন বা রাশিয়ার নিরাপদ স্থানে যেতে পারবেন।
নজরদারি ও স্বচ্ছতা: পুরো প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও নথিবদ্ধ করতে ইউক্রেনীয় ও রুশ টিমের পাশাপাশি একটি নিরপেক্ষ মার্কিন গণমাধ্যম সংস্থা উপস্থিত থাকবে।
শহরের ভৌগোলিক অবস্থান:
দিনিপ্রো নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত এই শহরটি ২০২২ সালে রুশ সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে। যুদ্ধপূর্ব সময়ে এখানে ২৪ হাজার মানুষ বাস করলেও বর্তমানে শহরটিতে প্রায় ১,৭০০ থেকে ২,০০০ বেসামরিক নাগরিক আটকা পড়ে আছেন।
এসআর