ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা, দাঙ্গা ও লুটপাট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে
পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু। আগামী ২৪ অক্টোবর (শনিবার) থেকে রাজধানী প্যারিস, মার্সেই, লিওঁসহ প্রধান প্রধান শহরের দাঙ্গাপ্রবণ এলাকাগুলোতে ব্যাপক পরিসরে সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি বড় নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করা হবে।
পরিস্থিতি ও সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ:
নিরাপত্তা ত্রুটি ও দায় স্বীকার: ফ্রেন্স পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি এবং পুলিশ মোতায়েনে বিলম্বের মতো কৌশলগত ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
কারফিউ ও তদন্ত: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়ভাবে কারফিউ জারি রাখা হয়েছে (বিশেষ করে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য)। সহিংসতায় জড়িতদের ধরতে ২০০ গোয়েন্দা সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং লিমোজেস শহরের ঐতিহাসিক টাউন হলে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এক উগ্র-বামপন্থী সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্তে পার্লামেন্টারি কমিশন গঠন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী চলমান এই অস্থিরতাকে 'সহিংসতা বনাম প্রজাতন্ত্র'-এর লড়াই হিসেবে উল্লেখ করে উগ্র-বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করলেও বিরোধীরা জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় ও সেবা খাতের অবনতিকে কারণ হিসেবে দেখছেন। ইতালি ও আলবেনিয়াসহ পুরো ইউরোপ জুড়ে এই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই দাঙ্গার প্রভাবে ফ্রান্সে অর্থনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে; ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং বিখ্যাত সুপারমার্কেট চেইন ‘ক্যারেফোর’ কোটি কোটি ইউরোর ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে। পরিস্থিতি সত্ত্বেও, মূল ছাত্র সংগঠন 'ইউএনইএফ' এবং 'হলুদ ভেস্ট' (Gilets Jaunes) আন্দোলনকারীরা আগামী শনিবার পুনরায় দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
এসআর