[email protected] শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজডুবি, পানিতে ভাসতে দেখা গেল আইফোন ও সুগন্ধির প্যাকেট

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৮:২৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর সাগরের পানিতে আইফোনের বাক্স ও দামি সুগন্ধির প্যাকেট ভাসতে দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ছোট নৌকায় থাকা কয়েকজনকে পানিতে ভাসমান পণ্য সংগ্রহ করতেও দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ নামের কনটেইনার জাহাজটি দুবাই থেকে পণ্য নিয়ে যাচ্ছিল। গত বুধবার হামলার শিকার হওয়ার পর জাহাজটিতে আগুন লাগে। পরে এটি হরমুজ প্রণালিতে ডুবে যায়।

 

সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি জানিয়েছে, জাহাজটির ২১ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।

 

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য সানের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি কনটেইনার ছিল। এতে আইফোন, দামি সুগন্ধি এবং বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরিবহন করা হচ্ছিল। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর কিছু পণ্য সাগরে ছড়িয়ে পড়ে।

 

জাহাজডুবির কারণ নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য

জাহাজটি কী কারণে ডুবেছে, তা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় জাহাজটি নৌমাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের তথ্যে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের কথা বলা হয়েছে। ফলে জাহাজডুবির প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।

 

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ৬ অক্টোবর ওমান উপসাগরে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ছোট নৌযানে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, নৌযানটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল এবং সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করছিল। হামলার আগে নৌযানটির নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে নৌযানটি ধ্বংস করা হয়। ওই ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ‘কেপ দাও’ নামের অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী একটি বাল্ক ক্যারিয়ারও ডুবে গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর জাহাজটি ডুবে যায়। ওই হামলায় একজন নাবিক নিহত হন এবং অন্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

দুই দিনে বাণিজ্যিক জাহাজে অন্তত পাঁচটি হামলা

হরমুজ প্রণালি ও সংলগ্ন এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের (ইউকেএমটিও) তথ্য অনুযায়ী, ৪৮ ঘণ্টায় ট্যাংকারসহ বাণিজ্যিক জাহাজে অন্তত পাঁচটি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ড্রোন হামলাও রয়েছে।

 

গত ১০ দিনেও এ অঞ্চলে জাহাজে হামলার তীব্রতা বেড়েছে। ইরানের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের বন্দর অবরোধ এবং গত মাসে আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাব দিতে তারা এ ধরনের পদক্ষেপ জোরদার করছে।

 

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার চেষ্টা করছে ইরান। ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তেহরান এই জলপথে চলাচল সীমিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ক্ষেত্রে নতুন কৌশল নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, তেলের দাম উঁচু রাখা এবং আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করা এসব পদক্ষেপের সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর