[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১০ এএম

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক

 অভিযান চালানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

​মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত উক্ত প্রতিবেদনে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ইরানে হামলা নিয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার আগেই দুই নেতার মধ্যে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকাশ্য বক্তব্যে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে কোনো হামলা চালাবেন না।

​প্রতিবেদনে জানানো হয়, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সংগৃহীত তথ্য প্রদান করে জানান যে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে। ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজের জন্য তাদের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ স্থাপনাটি ব্যবহার করছে কি না, সেই বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে উঠে আসে।

​তবে দুই নেতার মধ্যে যুদ্ধ পুনরারম্ভ নিয়ে আলোচনা হওয়ার খবরকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

​অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এখনো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ট্রাম্প যদি তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেন, তবে যেন দ্রুত অভিযান শুরু করা যায়—সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও চূড়ান্ত রাখা হচ্ছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না দিলেও নেতানিয়াহুকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।

​প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পক্ষে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর নেতৃত্ব। অন্যদিকে, ট্রাম্পের অধিকাংশ উপদেষ্টা নতুন কোনো সামরিক হামলার চেয়ে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।

​এদিকে, ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির মার্কিন জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনকে অবহিত করেছেন যে, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকির কারণে ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্ধারিত নির্বাচন পিছিয়ে দিতে হতে পারে।

​বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত সর্বশেষ পাল্টা প্রস্তাবের ওপর ইরানের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের প্রতিনিধিরা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর