[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌদিতে হুথিদের ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: বিমানবন্দরে নিহত ১, বহু হতাহত

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ৮:২১ এএম

সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে গত দুই দিনে

 দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এতে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। পর পর দুই দিনের এই দফায় দফায় হামলায় ওই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

​গত রবিবার চালানো এই হামলায় বিমানবন্দরের ৪ নম্বর প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে আগুন ধরে যায়। ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ঘটনার পরপরই এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর আগের দিন একই বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন। হামলাপ্রবণ এলাকা সংলগ্ন বেসামরিক অবকাঠামো রক্ষা ও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

​হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারে জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি উন্নত ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছেন। শুধু রিয়াদই নয়, সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় দাম্মাম বিমানবন্দর এবং একাধিক তেল শোধনাগারকে লক্ষ্য করে এ আক্রমণ পরিচালিত হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনা ব্যতীত পুরো সৌদি আরবের যেকোনো বিমানবন্দর তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

​এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানান, রিয়াদ বিমানবন্দরের আকাশেই একটি হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে, তবে ধ্বংসাবশেষ বা আঘাতের ফলে তৈরি হওয়া আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মার্কিন প্রশাসন ও তাদের মিত্ররা হুথিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষামূলক সহায়তার বিষয়টি ভেবে দেখছে বলে জানানো হয়েছে।

​উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির অবসান এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পর থেকে ইয়েমেনের হুথি ও সৌদি জোটের মধ্যবর্তী সংঘাত নতুন করে রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে। বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ভূখণ্ড ও বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা ওই অঞ্চলের সার্বিক স্থিতিশীলতায় বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর