রাশিয়ার অর্থনীতিকে কোণঠাসা করতে এবং ইউক্রেন যুদ্ধে দেশটির অর্থায়ন বন্ধে নতুন এক
বিধিনিষেধ আইনে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে বিপুল ভোটে পাস হওয়ার পর শুক্রবার বিলটি আইনে পরিণত হয়। প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটরের স্মরণে এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’।
নতুন এই আইন মার্কিন প্রশাসনকে বিশেষ কিছু ক্ষমতা প্রদান করেছে:
জ্বালানি ক্রেতাদের ওপর শুল্ক: রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
রুশ পণ্যে শুল্ক: রাশিয়ার বিভিন্ন পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।
কঠোর নিষেধাজ্ঞা: রুশ সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক, জ্বালানি খাত, সামরিক সহায়তাকারী বিদেশি নেটওয়ার্ক এবং তেল পরিবহনে ব্যবহৃত 'ছায়া জাহাজ' (শ্যাডো ফ্লিট)-এর ওপর প্রত্যক্ষ নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা হওয়ায় ভারত ও চীন নতুন এই আইনের কারণে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে। তবে এই আইন কার্যকর হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দেশের ওপর শতভাগ শুল্ক বসে যাচ্ছে না; বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। অতীতেও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার অপরাধে ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছিল, যা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রত্যাহার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৪০ কোটির বেশি জনগোষ্ঠীর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো উৎস থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সংগ্রহ বজায় রাখবে। তবে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিয়ে খোদ মার্কিন রিপাবলিকানদের মধ্যেই উদ্বেগ রয়েছে। দেশটির অনেক আইনপ্রণেতা আশঙ্কা করছেন, এসব অতিরিক্ত শুল্কের কারণে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেই পণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেতে পারে।
এসআর