[email protected] শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

জানাজার শোভাযাত্রায় ইসরাইলি ড্রোন হামলা: গাজায় নিহত ১৪

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬ ৭:১২ এএম

সংগৃহীত ছবি

চলতি যুদ্ধবিরতি চুক্তির তোয়াক্কা না করেই গাজা উপত্যকায় নতুন করে নারকীয় হামলা চালিয়েছে

 ইসরাইলি বাহিনী। বিভিন্ন এলাকায় চালানো এই হামলায় নারীসহ অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২০ জনের বেশি মানুষ। এর মধ্যে একটি জানাজার শোভাযাত্রাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালালে একসাথেই ৮ জন প্রাণ হারান।

​শুক্রবার (১৭ জুলাই) মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। গাজার সিভিল ডিফেন্স ও স্থানীয় আল-আওদা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

​প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, আগের আরেকটি হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির দাফনের জন্য নুসেইরাতের আহমাদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়েছিলেন। জানাজার শোভাযাত্রাটি শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ইসরাইলি ড্রোন থেকে সেখানে নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করা হয়।

​ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। তবে তাদের দাবি, মধ্য গাজায় একটি ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে’ লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছিল। বেসামরিক নাগরিক হতাহতের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তারা বরাবরের মতোই জানিয়েছে।

​হামাসের তীব্র নিন্দা

​এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এক বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার পরেও ইসরাইল প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করছে এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করে উপত্যকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলেছে।

​গাজাজুড়ে অন্যান্য হামলার চিত্র

​শুধু নুসেইরাত নয়, গাজার অন্যান্য প্রান্তেও শুক্রবার দিনভর হামলা চালিয়েছে ইসরাইল:

​বেইত লাহিয়া (উত্তরাঞ্চল): একটি স্কুলের কাছে ড্রোন হামলায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন।

​আজ-জাওয়াইদা (মধ্যাঞ্চল): আরেকটি হামলায় ১ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।

​আল-সাওয়ারহা (পশ্চিমাঞ্চল): বাস্তুচ্যুত ও আশ্রয়হীন মানুষের ওপর চালানো হামলায় ১ জন প্রাণ হারান।

​গাজা সিটি: একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত এবং শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

​খান ইউনিস: ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে গুরুতর আহত এক নারীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

​যুদ্ধবিরতি কেবলই কাগজে-কলমে

​গবেষণা সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা (ACLED)-র তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি চললেও বাস্তবে গাজায় ইসরাইলি হামলা থামেনি। বরং গত মে মাসের পর থেকে হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে। গত জুনে ৪০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর এক মাসে সর্বোচ্চ।

​এদিকে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেটজ-এর একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় এখন পর্যন্ত ২৭৪টি শিশু নিহত হয়েছে। অর্থাৎ, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গড়ে প্রতিদিন অন্তত একটি করে শিশুর প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। এই পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হলেও গাজায় থামছে না লাশের মিছিল।

এসআর

সম্পর্কিত খবর