মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানে দ্বিতীয় দফার অভিযান শেষ
করার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই দেশজুড়ে নতুন করে সিরিজ অজ্ঞাত বিমান হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনের প্রস্তুতির মাঝেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বুশেহর, সিস্তান-বেলুচিস্তান, আহভাজ ও চাবাহার এলাকায় এই হামলাগুলো চালানো হয়। তবে শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত এই হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি।
একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, দ্বিতীয় দফার পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হামলা চালায়নি। অন্যদিকে, ইসরায়েলও জুনের পর থেকে ইরানে নতুন কোনো হামলার দায় নেয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বে তেহরানের হামলার শিকার হওয়া উপসাগরীয় কোনো দেশ পাল্টা আঘাত হিসেবে এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে।
ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও আঞ্চলিক তৎপরতা:
এই অজ্ঞাত হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে আক্রমণের পরিধি বাড়িয়ে বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত ও কাতারে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব দেশে সাইরেন বেজে উঠলে সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে ছোটেন। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হামলা প্রতিহত করার সময় কুয়েতে একজন আহত হয়েছেন। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান জরুরি বৈঠকে বসতে কুয়েতে ছুটে যান। এছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলো কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। কাতার ও পাকিস্তান যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ ঠেকাতে এবং অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি বজায় রাখতে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ ইরানের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি প্রকাশ করেছেন।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও আমিরাতকে ইরানের হুমকি:
চলমান সংঘাতের অন্যতম মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। বিশ্ব সম্প্রদায়ের আপত্তি সত্ত্বেও ইরান দাবি করছে, এই প্রণালি এখন থেকে সম্পূর্ণ তাদের একক নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং চলাচলকারী নৌযানগুলোকে তেহরানকে ফি দিতে হবে। এর ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ১২০ ডলারে উঠলেও তা এখন কিছুটা কমেছে। এদিকে, মার্কিন নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত যৌথ সামুদ্রিক তথ্য কেন্দ্র (জেএমআইসি) বাণিজ্য জাহাজগুলোকে ওমানের জলসীমা ব্যবহার করে দক্ষিণ রুট দিয়ে যাতায়াতের পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন হামলায় সহায়তার অভিযোগ এনে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য ইসমাইল কৌসারি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য আমিরাতকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
এসআর