[email protected] মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

জাতিসংঘের ফুল-ফান্ডেড ফেলোশিপ, সমুদ্র বিশেষজ্ঞ হওয়ার সুযোগ

মোঃ আলী আকবর রনী

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২৬ ৩:৫৭ পিএম

সমুদ্র আইন, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ব্লু ইকোনমি খাতে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে ২০২৭ সালের সম্পূর্ণ অর্থায়িত ফেলোশিপের আবেদন আহ্বান করেছে জাতিসংঘ। উন্নয়নশীল দেশের যোগ্য সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা এই কর্মসূচির আওতায় নিউইয়র্কে প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে গবেষণার সুযোগ পাবেন।

সমুদ্র বিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন ও টেকসই সমুদ্র ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে ২০২৭ সালের United Nations–Nippon Foundation Fellowship on Ocean Affairs and the Law of the Sea-এর আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের Office of Legal Affairs (OLA)-এর অধীন Division for Ocean Affairs and the Law of the Sea (DOALOS) পরিচালিত এই ফেলোশিপ উন্নয়নশীল দেশের মধ্যম পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও সমুদ্রবিষয়ক পেশাজীবীদের জন্য উন্মুক্ত।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য হলো অংশগ্রহণকারীদের এমন জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করা, যাতে তারা নিজ নিজ দেশে জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন (UNCLOS) এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারেন। একই সঙ্গে সমুদ্রসম্পদ সংরক্ষণ, উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই সমুদ্রনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে দক্ষ নেতৃত্ব তৈরি করাও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

মোট নয় মাসব্যাপী এই ফেলোশিপ দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে আগামী ২৪ মার্চ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত জাতিসংঘের নিউইয়র্ক সদর দপ্তরে তিন মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১ জুলাই থেকে ১৭ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত নির্বাচিত ফেলোরা তাদের গবেষণার বিষয় অনুযায়ী বিশ্বের বিভিন্ন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ছয় মাসের গবেষণা পরিচালনা করবেন।

আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। কমপক্ষে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে এবং উচ্চতর গবেষণা পরিচালনার সক্ষমতা থাকতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীকে উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক এবং সমুদ্র বিষয়ক নীতি, সমুদ্র আইন, সামুদ্রিক বিজ্ঞান কিংবা সংশ্লিষ্ট খাতে কর্মরত মধ্যম পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা বা পেশাজীবী হতে হবে। ইংরেজি ভাষায় কথা বলা ও লেখায় দক্ষতাও বাধ্যতামূলক।

জাতিসংঘের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ করে যারা সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ, উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, সামুদ্রিক পরিবহন, সমুদ্র নিরাপত্তা, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, সামুদ্রিক বিজ্ঞান এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG-14: Life Below Water) বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তাদের আবেদন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

তবে সাধারণ ধারণার বিপরীতে, এই ফেলোশিপটি সব ধরনের পেশাজীবীর জন্য নয়। সাংবাদিকরাও আবেদন করতে পারবেন, তবে কেবল তখনই, যদি তাদের পেশাগত কাজ সরাসরি সমুদ্র বিষয়ক নীতি, সমুদ্র আইন, সামুদ্রিক পরিবেশ, ব্লু ইকোনমি বা সংশ্লিষ্ট খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়। কেবল সাধারণ সংবাদ, ক্রীড়া বা রাজনৈতিক প্রতিবেদনে যুক্ত থাকলেই এই ফেলোশিপের যোগ্যতা অর্জিত হবে না।

নির্বাচিত ফেলোরা আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়া, আবাসন, জীবনযাপনের জন্য ভাতা, গবেষণা ব্যয় এবং কর্মসূচির অন্যান্য নির্ধারিত আর্থিক সুবিধাসহ সম্পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ পাবেন।

আবেদন শুধুমাত্র Indico.UN প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে জমা দিতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব নথি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপলোড করতে হবে। ই-মেইলে পাঠানো আবেদন বা আলাদা করে পাঠানো কোনো নথি গ্রহণ করা হবে না।

আবেদনের শেষ তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের ৩৫০ জনেরও বেশি সরকারি কর্মকর্তা ও পেশাজীবী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ২০২৭ সালের জন্য মাত্র ১৪ জন ফেলো নির্বাচিত করা হবে। সফল আবেদনকারীদের নাম ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া নারী আবেদনকারীদের অংশগ্রহণে বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে প্রতিবন্ধী আবেদনকারীদের জন্য উপযুক্ত সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হবে।

সূত্র: United Nations Office of Legal Affairs (OLA), Division for Ocean Affairs and the Law of the Sea (DOALOS) – United Nations–Nippon Foundation Fellowship on Ocean Affairs and the Law of the Sea, 2027 Call for Applications

এসআর

সম্পর্কিত খবর