ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন ও জানাজা অনুষ্ঠানে লাখো
মানুষের আবেগঘন উপস্থিতি এবং শোক প্রকাশ দেখে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস'-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেন, তিনি ধারণা করেছিলেন ইরানের সাধারণ মানুষ হয়তো খামেনিকে পছন্দ করে না বা ঘৃণা করে, কিন্তু বাস্তব চিত্রে এত মানুষকে কাঁদতে দেখে তিনি অবাক হয়েছেন।
কড়া হুঁশিয়ারি ও ট্রাম্পের দাবি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে একটি বিতর্কিত দাবিও করেন। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইলে জানাজায় অংশ নেওয়া বিশাল জনসমুদ্রকে এক নিমেষে ‘নির্মূল’ করে দিতে পারত। তবে ওয়াশিংটন তা করেনি, কারণ তেমন কিছু করলে পরবর্তীতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জন্য আর কোনো পক্ষই অবশিষ্ট থাকবে না।
সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা স্থগিত
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার জানাজা ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেহরান পারস্পরিক আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ব্যাপারে একমত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দুই পক্ষের কেউই একে অপরের ওপর কোনো ধরনের সামরিক হামলা বা উসকানিমূলক পদক্ষেপ চালাবে না বলেও জানান তিনি।
তেহরানে লাখো মানুষের ঢল ও প্রতিশোধের সংকল্প
এর আগে, শনিবার তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত এই শিয়া নেতার বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতার মাঝে গভীর শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিশোধের মনোভাব দেখা গেছে।
জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ ইরানি ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষেরা খামেনির মৃত্যুকে নিজেদের পারিবারিক অভিভাবক হারানোর চেয়েও বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে তারা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেওয়ার জোরালো সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।
এসআর