[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

মুসলিম ভোটারদের আস্থা ফেরানোই লেবার পার্টির নতুন নেতৃত্বের বড় চ্যালেঞ্জ

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ জুলাই ২০২৬ ৮:১২ এএম

সংগৃহীত ছবি

গাজা যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির অবস্থান দলটির ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংকে বড়

 ফাটল ধরিয়েছে। বিশেষ করে মুসলিমপ্রধান নির্বাচনী এলাকাগুলোতে সাবেক ভোটারদের প্রায় অর্ধেকই দলটির ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ২০২৬ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার পর দলটির এই রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

​এই সংকটের সূত্রপাত মূলত ২০২৩ সালের অক্টোবরে, যখন গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের পর এক সাক্ষাৎকারে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা কিয়ার স্টারমার মন্তব্য করেছিলেন যে, গাজাবাসীর বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করার অধিকার ইসরাইলের রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধের শামিল এই মন্তব্যটি ব্রিটিশ মুসলিমসহ লেবার পার্টির মূল ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫০ জনেরও বেশি মুসলিম লেবার কাউন্সিলর অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানোর অনুরোধ করলেও তৎকালীন দলীয় নেতৃত্ব তা উপেক্ষা করে।

​যদিও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি বড় জয় পেয়েছিল, তবে সেটি ছিল দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম ভোট শেয়ার নিয়ে গঠিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার। গাজা ইস্যুতে অসন্তোষের কারণে মুসলিমপ্রধান বেশ কয়েকটি আসনে লেবার পার্টিকে চরম মূল্য চুকাতে হয়।

বিশেষ করে ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের নবগঠিত ‘ডিউসবারি অ্যান্ড ব্যাটলি’ আসনে লেবার পার্টির পরাজয় ঘটে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল মোহাম্মদ জয়ী হন। এই পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও, যেখানে ভোটাররা দলে দলে লেবার পার্টি বর্জন করে স্বতন্ত্র ও গ্রিন পার্টির প্রার্থীদের বেছে নিচ্ছেন। কির্কিলস কাউন্সিলে লেবার পার্টি সাম্প্রতিক নির্বাচনে একটি আসনও ধরে রাখতে পারেনি।

​বিশ্লেষকদের মতে, জেরেমি করবিনের আমলের সমাজতান্ত্রিক ও ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান থেকে সরে এসে কিয়ার স্টারমার দলটিকে যেভাবে অতি-ডানপন্থার দিকে নিয়ে গেছেন, তা লেবার পার্টির জন্য আত্মঘাতী প্রমাণিত হয়েছে। যদিও গত বছরের শেষের দিকে স্টারমার প্রশাসন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, ততক্ষণে ভোটারদের আস্থার যে ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে।

ডিউসবারি অ্যান্ড ব্যাটলি আসনের বর্তমান স্বতন্ত্র এমপি ইকবাল মোহাম্মদের মতে, এই অঞ্চলের মানুষ যুক্তরাজ্যের প্রচলিত দ্বি-দলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই পরিস্থিতিতে লেবার পার্টির সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব, বিশেষ করে অ্যান্ডি বার্নামের সম্ভাব্য সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশে ও বিদেশে দলের নীতিতে আমূল পরিবর্তন এনে মুসলিম সমাজ তথা সাধারণ ভোটারদের এই হারানো বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর