যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক তেলের মজুত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে
এসেছে। দেশটির স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে নতুন করে ৫৫ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার পর মোট মজুত দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৫৭ লাখ ব্যারেলে, যা ১৯৮৩ সালের মে মাসের পর সবচেয়ে কম।
ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মিলিয়ে দেশটির মোট তেল মজুত ১১ কোটি ১৪ লাখ ব্যারেল কমে ১৯৮৪ সালের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে। মূলত ইরান যুদ্ধের পর বৈশ্বিক সরবরাহ ঠিক রাখতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আমেরিকায় তেলের মজুত ও বৈশ্বিক সরবরাহ সংকুচিত হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্টো কমছে। আগস্ট ডেলিভারির ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৫১ ডলারে নেমেছে (যা গত মাসের চেয়ে ২২% কম)। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭০ দশমিক ৩৬ ডলার হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য আলোচনা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার আশাবাদে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশ চীনে তেলের দুর্বল চাহিদাও এই মূল্যপতনের অন্যতম কারণ। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা সত্ত্বেও গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তেল ও এলএনজি রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে।
এসআর