লেবাননের রাজধানী বৈরুতের উপকণ্ঠে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে ধারাবাহিক বৈঠক চলছে। আইডিএফের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির সংশ্লিষ্ট কমান্ডারদের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। তাদের ধারণা, ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক উভয় ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনার আওতায় ইসরায়েলে বড় ধরনের জনসমাগম সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর জন্য আগে থেকে কার্যকর থাকা নিরাপত্তা বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রম আপাতত স্বাভাবিক থাকলেও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির আলোচনা চলাকালে বৈরুতের শহরতলিতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই হামলায় হতাহতের পাশাপাশি অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এর আগেও বৈরুতে হামলার ঘটনার পর ইরান সরাসরি ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। ফলে নতুন হামলার পর আবারও একই ধরনের প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈরুতে সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যখন কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা সামনে রয়েছে, তখন এমন সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তিনি একই সঙ্গে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার স্বীকার করলেও প্রতিক্রিয়ার মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, সীমিত আকারের উসকানির জবাবে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আঞ্চলিক শান্তি প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঘটনাপ্রবাহের দিকে গভীর নজর রাখছে।
এসআর