বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
নতুন উদ্যোগের ফলে কর্মসংস্থান অনুমতির আবেদন প্রক্রিয়া হবে আরও দ্রুত, সহজ এবং সম্পূর্ণ কাগজবিহীন।
আমিরাতের মানবসম্পদ ও আমিরাতিয়াকরণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারের ‘জিরো গভর্নমেন্ট ব্যুরোক্রেসি’ কর্মসূচির আওতায় এই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করা যাবে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কিছু ধরনের ওয়ার্ক পারমিটের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে। ফলে নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি সময়সাশ্রয়ী হবে।
এদিকে, সেবার মান আরও উন্নত করতে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনভিত্তিক গণপরামর্শ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মতামত এবং সুপারিশ জমা দিতে পারবেন।
ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছে একটি সমন্বিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম।
এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তা ও কর্মীরা ঘরে বসেই বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত আবেদন ও সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বেসরকারি খাতের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে দেশটিতে ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট চালু রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য রয়েছে দুই বছর মেয়াদি বিশেষ পারমিট।
এছাড়া এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি পরিবর্তনের সুবিধার জন্য রয়েছে পৃথক ট্রান্সফার পারমিট।
পরিবারের সদস্যের স্পনসরশিপে থাকা ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে ফ্যামিলি স্পনসরড পারমিট, স্বল্পমেয়াদি প্রকল্পের জন্য মিশন ওয়ার্ক পারমিট এবং অস্থায়ী কর্মসংস্থানের জন্য টেম্পোরারি পারমিটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্স ও খণ্ডকালীন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্বাধীনভাবে কাজ করতে আগ্রহীরা ফ্রিল্যান্স পারমিটের আওতায় কাজ করতে পারবেন।
এছাড়া নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীরা পার্ট-টাইম পারমিটের মাধ্যমে একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
শিক্ষকদের জন্য প্রাইভেট টিউটরিং পারমিট এবং গোল্ডেন ভিসাধারীদের জন্য বিশেষ কর্মসংস্থান অনুমতির ব্যবস্থাও নতুন নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এটি মূল তথ্য অক্ষুণ্ন রেখে সম্পূর্ণ নতুন ভাষা ও কাঠামোয় লেখা হয়েছে, ফলে সরাসরি কপিরাইট সমস্যার ঝুঁকি অনেক কম হবে।
এসআর