[email protected] সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ জুন ২০২৬ ১০:৫৬ এএম

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

 ইসরায়েলের নতুন হামলা এবং ইরানের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের খবরের পর বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের মূল্যে।

​আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ সোমবার (৮ জুন) বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩.২০ ডলার বা ৩.৩৯ শতাংশ বেড়ে ৯৬.২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন ডব্লিউটিআই (WTI) অপরিশোধিত তেলের দামও ২.৮৭ ডলার বা ৩.১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩.৪১ ডলারে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, গত মার্চ মাস থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

​আজ সোমবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরান, ইসফাহান ও তাবরিজে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট দ্রুত সমাধানের আশা ম্লান হয়ে গেছে। এর ফলে বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের প্রধান মাধ্যম ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও এখন বড় শঙ্কায় পড়েছে। যদিও গতকাল রোববার ইরান কর্তৃক ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, একটি শান্তি চুক্তি এখনো সম্ভব এবং তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নতুন করে হামলা না চালাতে আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার অন্যতম শর্ত হিসেবে দেখছে ইরান; যা গত ৩ জুন ওয়াশিংটনে দীর্ঘ আলোচনার পর কার্যকর হয়েছিল।

​এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গতকাল রোববার জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট 'ওপেক প্লাস' (OPEC+) টানা চতুর্থবারের মতো তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির বর্তমান অচলাবস্থা এবং বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার ঘাটতির কারণে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব বাজারে খুব একটা পড়বে না। জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান জর্জ লিওন জানান, বর্তমানের এই অস্থিতিশীল যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ওপেক প্লাসের উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বাস্তব কার্যকারিতা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি।

এসআর

সম্পর্কিত খবর